ক্রন্দিত ভালোবাসা || মুহাম্মদ ফজলুল হক
ক্রন্দিত ভালোবাসা || মুহাম্মদ ফজলুল হক

বিদ্যাকুটের উদ্দেশ্যে তিতিয়া থেকে নৌকাযোগে রওনা হয় সুরত আলী| পাল তোলা নৌকা ছুটে চলছে পূর্বদিকে| কম সময়ে রূপসদি বিল হয়ে তিতাস নদী দিয়ে মেঘনায় পতিত হলেও স্রোত ও বাতাস কম হওয়ায় নৌকা ধীরে ধীরে চলছে| সুরত আলীর মনে আনন্দ| গান গেয়ে উঠ মন| সে মাঝির দিকে তাকায়| মাঝি হাল ধরে দূরপানে তাকিয়ে আছে| কোন ভ্রক্ষেপ নেই| তাড়াহুড়ো নেই| আছে শুধু লক্ষ্যে পৌছানোর তাড়া| দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়| রোদ কমে আসে| ছইয়ের ভেতর থেকে বের হয় সুরত আলী| দিগন্ত ছোঁয়া পানি তাকে আকৃষ্ট করে| বিশাল সাদা আকাশ পানির দ্যোতনায় রঙের পালাবদলে ক্রমেই নীল হয়ে উঠছে| পানিতে পা নামিয়ে বসে সে| পানির স্পর্শে সিগ্ধ হয়ে উঠে শরীর| মেঘনার স্বচ্ছ পানি শুদ্ধ করে তোলে তার মনকে| কিছুক্ষণ পর ডুবন্ত পা নৌকায় তুলে ছইয়ের ভিতরে এসে মাদুর পাতা বিছানায় আরাম করে বসে|

মেঘনার জলরাশির স্রোতের প্রভাবে নৌকার গতি

বাড়তে থাকে| হঠাৎ বাতাস বেড়ে যাওয়ায় মাঝি হালের নিয়ন্ত্রণ রাখতে ব্যর্থ হয়| নৌকা ছুটে চলে আপন গতিতে| আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়| পানি আর আকাশ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়| সব ছাপিয়ে বাতাসের শব্দ ও ঢেউ ভয়ংকর রূপ ধারণ করে| মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় উঠে| লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় চারপাশ| ঝড়ে সুরত আলীকে বহন করা নৌকা মেঘনার পশ্চিমদিকে ভৈরব বাজারে আছড়ে পরে|

নদী তটে অজ্ঞান হয়ে পরে আছে সুরত আলী| ভোরের সিগ্ধ হাওয়া সুরত আলীকে কেন্দ্র করে উষ্ণতা ছড়ায়| প্রাতঃভ্রমন ও নদীতে গোসল করতে আসা মানুষের জটলা বাড়ে| কেউ একজন নদী থেকে হাতে করে পানি এনে তার মুখে ধরে| পানি পান করে কিছুটা ধাতস্থ হয় সে| চারদিকে তাকিয়ে অবাক হয় সুরত আলী| জীবন এক অপরিকল্পিত খেলা| সুরত আলীর কনে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল বিদ্যাকুটে| অথচ এখন  ভৈরবে| নিয়তির খেলায় নিজকে সঁপে দেয় সে|

শহরটি মন্দ নয়| পরিষ্কার, পরিপাটি| সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের আলোয় পথঘাট আলোকিত হয়ে উঠে| এ ব্যাপারটি সুরত আলী বেশ উপভোগ করে| রাতে হেঁটে হেঁটে শহর দেখে| মেঘনা নদীর তীরবর্তী হওয়ার দিন দিন বাণিজ্য নগরী হয়ে উঠছে| নদীকেন্দ্রিক সারা দেশে ব্যবসা পরিচালিত হয়| এলাকার মানুষ স্বচ্ছল ও খরচে| ভৈরবের অন্যতম আকর্ষণ মেঘনা সেতু| রাজা ষষ্ঠ জর্জ সেতু নামেও পরিচিত| বারটি পিলার ও নয়টি নান্দনিক স্প্যান নিয়ে এই সেতু ভৈরব-আশুগঞ্জকে সংযুক্ত করেছে|

কত রহস্য লুকিয়ে মানব জীবনে| সুরত আলী ইব্রাহিম হাজির গদি ঘরে কাজ পায়| হাজি সাবের বড় ব্যবসা| মোকাম থেকে ধান, চাল ও মরিচ আসে| সুরত আলীর কাজ সব লিখে রাখা|

ব্যস্ততায় দিন কাটলেও সন্ধার পর কাজ থাকে না| শহর দেখতে বের হয় সে| প্রতিদিনই শহরকে নতুন করে চিনে| ছোট শহর| এককেন্দ্রিক| এককেন্দ্রিক হলেও ব্যঞ্জনায় ভরপুর| তিনদিকে নদী| পূর্বদিকে বিশাল মেঘনা| দক্ষিন দিকে এগিয়ে গেলে শহরের

 

শেষ সীমায় পৌঁছানো যায়| শেষপ্রান্তে দাঁড়ালে দেখা যায় মেঘনার একটি শাখা নবীনগরের দিকে ছুটে চলছে অপর শাখা পশ্চিম দিকে বাঁক নিয়ে কিছুদুর এগিয়ে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রনদে মিলিত হয়েছে| উত্তর দিক দিয়ে এসে কালনী নদী মেঘনায় যুক্ত হয়েছে| মেঘনার বিশালত্বে নিজের ক্ষুদ্রতা অনুভব করে সুরত আলী| মায়ের কথা মনে হয়| গ্রাম ভেসে উঠে মনের চোখে| কে বেশি সুন্দর? নদীর মিলিত স্রোত নাকি নিজের গ্রাম| গ্রামের প্রেমে অন্ধ হলেও চাঁদের আলোয় ঝিকিমিকি করা মহিমাময় নদীর সৌন্দর্যের কাছে হার মানে সে|

 

নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করে গদিঘরে ঘুমাতে যায়| মোয়াজ্জিনের আজানে ভোরেই ঘুম ভাঙে তার| আযানের মুগ্ধতা অনুভব করতে করতে ঘর বের হয়ে দেখে সারি সারি মহিলার দল নদীতে গোসল করতে যাচ্ছে| এত সকালে মহিলাদের গোসল করতে যাওয়ার দৃশ্য দেখে অবাক হলেও মূহুর্তে উপলব্ধি করে গদিঘরে ঘুমানো লোকজন খুব সকালে কেন নদীর ঘাটে গিয়ে বসে| মূলত

 

ভোরের সিগ্ধতা উপভোগ করার নামে ঘাটে বসে মহিলাদের গোসল উপভোগ করা|

মাঝে মাঝে সেও ঘাটে গিয়ে বসে| ভোরের মৌনতায় নদী ও নারীর সৌন্দর্য উপভোগ করে| একদিন গোসল করতে আসা নারীর মধ্যে একজনের সাথে তার পরিচয় হয়| ছিপছিপে লম্বা গড়নের মেয়েটির মায়াবী মুখ| এত সকালেও সাজগোজ করা| চোখে কাজল টানা| বাম চোখের কাজল লেপ্টে আছে| ঠোঁট রাঙানো| চুল খোলা| দলের মেয়েদের তুলনায় পরিপাটি ও গোছানো| একরঙা সূতি শাড়ি ও খাটো হাতা ব্লাউজ পরে কাপলে টিপ দিয়ে গোসল করতে আসা মেয়েটি ইশারায় তাকে ডাকে| হিমেল হাওয়ায় তার শাড়ির আঁচল ও খোলা চুল উড়ছে| রাতজাগা পাখির মত আনমনা ও বিষণ্ন লাগছে মেয়েটিকে|

 

অস্বস্তি নিয়ে এগিয়ে যায় সে|

"তোমার বাড়ি কি তিতিয়া?"

আচমকা প্রশ্নে ভড়কে যায় সুরত আলী| উত্তর দিতে পারে না| তোতলাতে শুরু করে|

"আচ্ছা| বলতে হবে না| আগামীকাল এসো|

 

আমিও আসব|" বলে সঙ্গীদের সাথে চলে যায়|

 

ঘটনার আকস্মিকতায় সব ওলট-পালট হয়ে যায়|

নিজকে সামলে নেয় সুরত আলী| সে তাকিয়ে আছে রমণীর চলে যাওয়ার দিকে| পিছনে ফিরে না তাকালেও রমণীর চেহারা সুরত আলীর মস্তিষ্কে স্থায়ী হয়ে যায়|

 

পরের দিন আজানের আগেই ঘাটে এসে উপস্থিত হয় সুরত আলী| এই প্রথম তার চোখে পড়ে ঘাটের অনাবিল সৌন্দর্য| সমগ্র তটরেখা ঘাট হলেও এই এলাকা অন্যরকম| উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ছোট-বড় পাথর বিছানো| পাথরের যে আলাদা রং আছে প্রথমবার উপলব্ধি করে সে| পাথরের উপর বসে, কাপড় কেচে, পা ঘষে, সাবান মেখে পানিতে নামে গোসল শেষ করে সবাই| কেউ কেউ এখানেই পোশাক পরিবর্তন করে| কেউ ভেজা কাপড়ে বাড়ি ফিরে যায়|

 

আলো আধাঁরিতে নদীর বিশালতা ধরা না পড়লেও ভোরের সিগ্ধতা চারপাশে মোহনীয়

 

অনুভব ছড়ায়| আনমনা হয়ে যায় সুরত আলী|

কলকল হাসির শব্দে নড়েচড়ে বসে| নারীর দল আসছে| খুশি হয় সে| অপেক্ষা করে| কিন্তু  কাঙ্ক্ষিত রমণী আসে না| নদীর ওপারে সূর্য উঁকি দেয়| পানির তরঙ্গ ভেসে উঠে| হতাশ হয়ে গদিঘরে চলে আসে সে|

 

কাজে মন বসে না| উদাস উদাস লাগে| এতদিন বাড়ির কথা মনে হতো| এখন শুধু মেয়েটির কথা মনে হয়| কেন আসেনি কথা দিয়ে| নিজে প্রশ্ন করে নিজেই উত্তর দেয় সুরত আলী|

কেমন আছ, 'গতকাল আসনি কেন?'

"কথা দিয়ে কথা রাখতে নেই আমার|" খিলখিলিয়ে হেসে, মেয়েটি বলে|

চুপ করে থাকে সুরত আলী|

"ওরে আমার নাগররে! প্রতিদিন দেখা করতে হবে| পারব না আমি|"

সুরত আলী তাকায় মেয়েটির দিকে| কেমন যেন অগোছালো| অস্থির| বিষণ্নতায় ভরপুর মুখ| অভিমান হয় তার| সে বলে, "ঠিক আছে| দেখা করতে হবে না|"

 

"এত অভিমান কেন? তাকাও আমার দিকে| দেখ, ক্ষতবিক্ষত আমি|"

চমকে উঠে সে| " কি হয়েছে তোমার!"

"না, কিছু না| অন্যদিন বলব|" চল চা খাই|

দুজনে মিলে চা খেতে যায়|

"কি হল, সুরত? কাজ না করে কি ভাবছ!"

মহাজনের ডাকে চমকে উঠে সুরত আলী|

 

পরের দিন সে ঘাটে যায়| মুচকি হেসে কিছু না বলেই চলে যায় রমণী| মন খারাপ করে ফিরে আসে সুরত আলী| পরেরদিন সে একটু দেরি করে যায়| আড়ালে দাড়িয়ে অপেক্ষা করে| মেয়েটি এসে তাকে খুঁজে| সে সামনে আসে| তাকে দেখে খুশি হয় রমণী|

 

সুরত আলী বলে, " কেমন আছ?"

"আমদের সবসময় ভালো থাকতে হয়|"

"এমনভাবে বলছ কেন?"

না, এমনি| "তোমার কথা বল?'

"পরগাছা আমি, ঝড়ে উড়ে এসেছি|"

হাসতে শুরু করে মেয়েটি| হাসতে হাসতেই বলে,

 

"আমার কথা শুনলে আবার তুমি উড়ে যাবে|"

"আমিতো উড়ছিই| উড়ে যাওয়া মনে হয় আমার জীবন|"

"আর উড়তে হবে না, এবার মাটিতে নাম|"

"বলছ তুমি?"

"তোমার নাম কি?" মেয়েটি বলে|

সুরত আলী| 'বাহ&, যেমন চেহারা| তেমন নাম|

তোমার?"

"হাসি, হাসি আমার নাম|"

"এজন্যই এত হাসো..."

 

সুরত আলীর সময় আনন্দে কাটে| সন্ধ্যার পর ঘুরতে বের হয়| কাঁচারি রোড ধরে সামনে এগুলে কলেজ চোখে পড়ে| কলেজের নিচে স্কুল| স্কুলের পরিসর আরো বড়| সঙ্গীদের সাথে কলেজ রোড পেড়িয়ে রানী বাজার হয়ে সামান্য দক্ষিণে এগুতেই বামপাশে ছোট ছোট ঝুপড়ি ঘরের সামনে নারীদের দাড়িয়ে থাকতে দেখে| এভাবে দাড়িয়ে থাকা অবাক হলেও মূহুর্তে সে বুঝতে পারে পতিতালয়ে চলে এসেছে| কয়েকজন নারী ইশারায় তাদের ডাকছে| সঙ্গীরা ভেতরে গেলেও

 

সে ফিরে আসে|

 

পতিতালয় নিয়ে আলাদা কোন ইগো নেই সুরত আলীর| ব্যস্ত শহরের স্বাভাবিক ঘটনা| শুনেছে পতিতালয় থেকে বেশির ভাগ নারী দলবেঁধে ভোরে গোসল করতে নদীর ঘাটে আসে| যে ঘাটে গিয়ে সে বসে থাকে সেই ঘাট পতিতাদের জন্য নির্ধারিত| অবচেতন মন সচেতন হয়ে উঠে| তবে কি হাসি!

 

পর পর দুইদিন সুরত আলী নদীর ঘাটে যায় না|

হাসি তাকে খুঁজে না পেয়ে বিষণ্নতা অনুভব করে|

সারা রাতের ধকল কেটে যায় সুরত আলীর সাথে কথা বললে| এই জীবনে তার আনন্দ বলতে কিছু নেই| সুরত আলীকে দেখলে সুখ সুখ লাগে| সেও কি তাকে ফাঁকি দিবে| নাকি সে পতিতা তা জেনে গেছে সুরত আলী|

ও সই চল, " তোর নাগর আর আসবে না|"

হাসি বলে, "ও আমার নাগর না| বন্ধু| নিশ্চয়ই আসবে|"

হাসতে হাসতে চলে যায় তারা|

 

সুরত আলী নিজকে সান্ত্বনা দেয়| নিশ্চয়ই হাসি পতিতা না| পতিতা হলেই বা কি? না| না| তার পৌরুষ তাকে আটকে দেয়|

"তুমি একজন পতিতা গ্রহণ করতে পারো না|"

চিৎকার করে উঠে সে| "নিশ্চয়ই পারি|"

"ধীরে, সুরত ধীরে| জোড় করে সব হয় না|'

"কেন হয় না!'

সারারাত ঘুমাতে পারে না সে| নিজের মুখোমুখি হয়ে বার বার হেরে যায়|

 

সে ঘাটে চলে যায়| মোয়াজ্জিনের আযান ভেসে আসে| আযানের মাধুর্যতা তাকে শান্ত করে| হাসির শব্দ কানে আসে| সে বুঝতে পারে হাসি এদিকে আসছে|

তাকে দেখে অবাক হয় হাসি!

"একি চেহারা তোমার সুরত! রাতে ঘুমাওনি?"

নিজকে নিয়ন্ত্রণ করে সে, চুপ থাকে|

"কথা বল, উত্তর দাও|"

কোন উত্তর দেয় না সুরত|

"বুঝতে পারছি, পরিচয় জেনেছ| ভয় পেও না|

 

আমার অন্ধকার জীবনের সাথে জড়াব না তোমাকে| শুধু একটা অনুরোধ রেখ|"

"কি?"

"প্রতিদিন ভোরে এখানো এসো| তোমাকে দেখলেই আমার শান্তি লাগে| রাতের গ্লানি দূর হয়ে যায়| মনে সুখ আসে| এই শান্তি ও সুখ থেকে বঞ্চিত করো না|"

হাসির আকুতি তাকে স্পর্শ করে|

সে বলে, "নিশ্চয়ই আসব|"

হাসি তার হাত ধরে বলে, " সত্যি তুমি ভালো মানুষ|"

 

হাসি চলে যেতে চাইলে সে বারণ করে| আরেকটু থাক| আমার কথা শোনে যাও| তোমার কষ্ট আমি উপলব্ধি করি| তোমার অন্ধকার জীবন নিয়ে আমার কোন কৌতূহল নেই| শুধু জেনে রাখ, তোমাকে দেখলে আমারও ভালো লাগে| অনেক ভালো| যে ভালো অনুভব করা যায়| প্রকাশ করা যায় না|

গভীর চোখে সুরতকে দেখে হাসি| ছেলেটিকে এখনো পাপ স্পর্শ করেনি| মাথা নিচু করে চলে যায় সে|

 

ভোরের আকাশ, হিমেল বাতাস, উদিত সূর্য, মেঘনার স্রোত তাদের কথোপকথনের স্বাক্ষী হয়ে যায়|

 

দিন কেটে যায়| হাসির সাথে সুরত আলীর নীরব বন্ধন গড়ে ওঠে| সে কখনো তার অতীত জানতে চায় না|

একদিন হাসি কান্নাভেজা চোখে বলে,

সুরত, "আমার কথা কেউ শোনে না| তুমি শুনো| অথচ তোমাকে কিছু বলার অধিকার নেই | আমার জীবন তোমার নয়| অন্যের জন্য বিক্রি হয়ে গেছে|"

সুরত আলী স্তব্ধ হয়ে শোনে| কিছু বলে না|

 

নদীর ঘাটে হাসি এখন আসে না| দিন যায়, সপ্তাহ যায়| সুরত অপেক্ষা করে| হাসি ফিরে না ঘাটে| প্রতিদিন সে অপেক্ষা করে দেখে হাসির এক সঙ্গী সুরতকে বলে, " হাসি পালিয়ে গেছে| কখনো ফিরবে না|"

সুরত আলীর বুক ফাঁকা হয়ে যায়| কিভবে খুঁজবে সে হাসিকে| হঠাৎ বাড়ি থেকে চিঠি আসে| মা

 

অসুস্থ| সে বাড়ি যায়| তাকে পেয়ে মা খুশি হয়ে বলে, "বিদ্যাকুটে আবার কনে দেখতে যা বাবা| পাত্রীপক্ষ যোগাযোগ করছে| তোর বউ ঘরে না এনে মরেও শান্তি পাব না|"

অবশেষে বিদ্যাকুটে যায় সে| সামনে বউ সাজা নারীকে দেখে কেঁপে ওঠে| ঝাপসা মনে হয় চারপাশ| ঠিক দেখছে কিনা উপলব্ধি করতে পারছে না| চোখ মুছে ভালো করে তাকায়| সত্যি সত্যি চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, হাসি! মলিন মুখ, ভেজা চোখ, ঠোঁট কাঁপছে|

সুরত আলী বলে, " তুমি!"

চোখ খুলে তার দিকে তাকিয়ে নিঃসংকোচে হাসি বলে, "হ্যাঁ| আমিই সেই মেয়ে| যাকে দেখতে বহুদিন আগে নৌকাযোগে তুমি বিদ্যাকুট রওয়ানা হয়েছিলে| ভাগ্যের ঝড় তোমাকে নদীতে ফেলে দিয়েছিল| আমাকে জীবনের অন্ধকার গহ্বরে|"

নিরব থাকে সুরত আলী|

আত্মীয় স্বজনের উপস্থিতি ছাপিয়ে দু’জন মানুষের চোখে চোখ আটকে যায়| হৃদয়ে কম্পন বাড়ে| মনের ভেতর কষ্ট জমে| নিয়তির খেলা, সময়ের নির্মমতা তাদের মধ্যে অদৃশ্য প্রাচীর হয়ে

 

দাঁড়িয়ে যায়| তারা উপলব্ধি করে জীবন এক অপরিকল্পিত সময়| যেখানে ভালোবাসার কোনো ঠাঁই নেই|


সাবস্ক্রাইব করুন! মেইল দ্বারা নিউজ আপডেট পান